Monday, 6 September 2021

সীমা ব্যানার্জ্জী-রায়--বৃষ্টি-ভেজা-ভূত





বৃষ্টি-ভেজা-ভূত

সীমা ব্যানার্জ্জী-রায়


নেভারহুড ব্লক পার্টি সেরে বাড়ি ফিরে এলাম। মনটা বেশ ফুরফুরাইয়া। বাইরে রিমঝিম বৃষ্টির নূপুরের নাচের আওয়াজ আসছে। সেই গানটার মতন মন তখন। “ঘুঙ্ঘট কী তরহ বাজতাহি রহা হুঁ ম্যায়”। ফ্রেস হয়ে কম্পিউটার খুললাম...”খুলে কভি ইস পগ মে, কভি উস পগ মে, বাজতাহি রহা হুঁ ম্যায়—এ” হঠাৎ তো চক্ষু চরখগাছ। কাকে দেখছি সারা স্ক্রীন জুড়ে...

#

“ অ্যাই তুই কে রে?”-আমি রেগে শুধোলাম।

-কেঁন কেঁএএএনো বঁলব রেঁএএএ

বলতেই হবে তোকে, তুই কে? বল শিগ্গীর...নয়ত...

-নঁয়ত কীঁ??? হিঁ হিঁ শুঁনবি বঁলছিস তাঁহলে, আঁআআমি 'তুঁই' রেঁ। চিঁইনতেঁ পাঁচ্ছিস নাঁআআ?

-তুই আমি? ওরে বাব্বা কি বলে রে? মনে মনে বিড়বিড়ালাম। তাও সাহস করে জোর গলায় বললাম...

-অ্যাই! ঠিক করে বল। তুই কে এ ? ইয়ার্কি মারছিস? রাত হয়ে গেছে ।  জানিস আমি ভয় পাই।  ভীতু একটা।

আঁমি 'তুঁইই' বঁললাম তোঁ। কঁঅথা কাঁনে যাঁচ্ছে নাঁ, নাঁকি?

এ তো ধমকায় আবার দেখছি!

#

এদিকে আমার বুকের বাঁ দিকের পান্ডুলিপি তো বেদম জোরে ঘুরছে। কম্পিটিউটারের ডেস্কটপে আজ তো কিছুই আসছে না। ফেসবুকে একটা লেখা পোস্ট করব তা আর করা যাচ্ছে না তো। একদম আমার ডুপ্লিকেট একটা ছবি আসছে। আমি আদৌ হাসছি না। কিন্তু ছবিটা হেসেই চলেছে তো। সামনের দাঁতগুলো খালি নেই। দেখি ডেস্কটপ বন্ধ হয়ে গেল। মানে গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে গেল। বাইরে একটা কড়াৎ কড়াৎ করে বিদ্যুৎ -এর সাথে মেঘ ডেকে উঠল। একটা বিকট নাকী সুরের হাসিতে ভরে উঠেছে আমার অফিস ঘর।

#

ও মাঃ! এ তো মহা বিপদ! আমি ত কোনদিন হোয়াটস আপ ব্যবহার করি না। এ কি? আপনা আপনি হোয়াটস আপ চালু হয়ে গেল যে...

কোন ভাষায় কথা বলছে রে বাব্বাঃ। আমার আশপাশে আবার এখন এই মুহূর্তে তো কেউ নেই।

বলে,--বুঁয়েনোঁস নোঁওচে! আঁমার কঁথা বুঁঝতে পাঁরছিস নাঁ বুঁউঝি? তাঁ বুঁউঝবি কীঁ কঁরে। আঁমি তোঁ হিঁয়েরোগ্লাফিক্স ভাঁষায় কঁথা বঁলছি।

-মনে মনে ভাবছি এটা আবার কি ভাষা রে ।

-হঠাত আমার মতন মুখটা খেঁকি গলায় বলেঃ আঁবার মঁনে মঁনে বিঁড়বিঁড়াচ্ছিস?

রেঁগে যাঁব কিঁন্তু এঁবার...। রেঁগে গেঁলে ঘাঁড় মঁটকে দিঁ-জাঁনিস তাঁ।

#

আমি ভয়ে পালাতে যাব ঠিক সেই সময় দেখি সে হোয়াটসআপ থেকে লাফিয়ে একেবারে আমার ঘরের দরজায়...সারা শরীর জলে ভেজা তার। কিন্তু আশ্চর্য্য কার্পেটে এক ফোঁটা জল নেই। আমি নিজেকে চিমটি কাটছি--লাগছে তো। আমি তখন নট নড়নচড়ন। দেওয়ালে মাথা ঠুকলাম ঠকাস করে। ওমাঃ কিন্তু সামনে যে দাঁড়িয়ে- কে সে?

বলেঃ 'কোঁথাও যাঁবি নাঁ। আঁজ নাঁ হ্যাঁলোইন।! ক্যাঁন্ডি দেঁ আঁগে...'

আমার মুখের কথা সব পেটে চলে গেছে তখন। তাকিয়ে দেখি । আমি তখন সে নয়। দুটো চোখ। গোল গোল চোখ আর চোখ দুটো লাল আর কালো চুমকি দিয়ে ঘেরা...শরীরটা ফড়িং এর মতন সবুজ আর লিকলিকে।

#

আবার খ্যানখ্যানে গলায় হাসতে হাসতে বলে, “ যাঁ আঁজ ছেঁড়ে দিঁলাম তোঁকে। কাঁরণ, তুঁই হ্যাঁলোইন পাঁলন কঁরেছিস। বুঁঝলি? কাঁল থেঁকে কিঁন্তু টাঁইম চেঁঞ্জ হঁয়ে যাঁবে । ঘঁড়ি ঠিঁক কঁরে নিঁস। আঁর রাঁত কঁরিস না । শুঁয়ে পঁড়। আঁবার আঁসব পঁরের বঁছর 'তুঁইই' হঁয়ে বাঁ আঁমার মঁন যাঁ চাঁইবে তাঁই হঁয়ে। ভাঁলো থাঁকিস, কেঁমন? হ্যাঁআআআপি হ্যাঁআআআলোইইইইইন!

নিজের ব্যাপারটাই ধুয়ে -মুছে বলি,

আমি তখন দাঁত কপাটি

আমি তখন আলুকশালুক

আমি তখন একলাঘরে

বৃষ্টি-ভেজা ভূত।

 

2 comments:

সম্পাদকীয়--

সম্পাদকীয়-- অজানার মাঝে রহস্যময়তা লুকিয়ে থাকে। জন্ম-মৃত্যু বুঝি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড়  রহস্য। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আমরা অভ্যস্ত, অভ...