Saturday, 4 September 2021

রূপালী মুখোপাধ্যায়--গেছো ভূত

 

গেছো ভূত 

রূপালী মুখোপাধ্যায় 


বাবাই আজ খুব খুশী কারণ আজ সকালেই মা ওকে খবরটা দিয়েছে ।কাল রাত্রে বাবা মা ঠিক করেছে যে এ বছর বাবাই এর মাধ্যমিক শেষ হলো তাই তারা সবাই মিলে কালী পুজোতে মামার বাড়ি যাবে।বাবাই এর পড়া পড়া করে বেশ কয়েক বছর মামার বাড়িতে যাওয়া হয়নি।মামাদের গ্রামটা খুব সুন্দর।সবুজ গাছপালায় ঘেরা, একটা ছোট নদীও আছে।এখন তো রাস্তা ঘাটও ভালো।অটো, টটো সব চলে।বাবাই তো খুব খুশী আর এই খুশির খবর সবাইকে জানিয়ে দিলো।সেই খবর শুনে বাবাই এর মাসির ছেলে টুকুন বললো আমরাও যাচ্ছি ।হেব্বি আনন্দ হবে।

মামার বাড়ির কালী পুজোটা হয় বৈশাখ মাসের প্রথম মঙ্গলবার ।ওখানে সবাই রক্ষাকালী পুজো বলে।ওই গ্রামের শ্রেষ্ঠ আনন্দ উৎসব ।

যথা সময়ে বাবাইরা ও টুকুনরা সকলে মামার বাড়ি হাজির। আরও অনেক আত্মীয় এসেছে ।বাড়ি একবারে গমগম করছে।মামার ছেলে সুমন ও মেয়ে পাপুন এর তো কত রকম প্ল্যান হচ্ছে।

রাত্রে পূজো । মেলাও বসেছে। সন্ধে বেলায় বসে সবাই  খোশ মেজাজে গল্প চলছে।হাসি  মজায় ভরপুর। তেলেভাজা আর মুড়ি চলছে।চা আসবো আসবো করছে।এমন সময় হঠাৎ ঝড় শুরু , সঙ্গে বৃষ্টি আর মেঘের ডাক।বাপরে বাপ কান ফাটিয়ে দিচ্ছে ।কারেন্ট চলে যাবে , এতো জানাই।ঘুরঘুটে অন্ধকার।সব ভাইবোনেরা ঘেষাঘেষি করে বসে আছে।সকলেই চুপ।সুমন চিৎকার করছে,ওমা মোমবাতিটা দিয়ে যাও না ।

মামিমা রান্নাঘর থেকে বললো - যাচ্ছি যাচ্ছি দাঁড়া, চুপ করে বসে থাক।

বাবাই বললো এখানে ভূতটূত নেইতো ?টুকুন বললো আমি ভূতকে ভয় পাই না। তোরা ভয় পাস নাকি? ধ্যূর, ভূত বলে কিছু নেইই। পাপুন বললো , এক আধবার দেখা যায়।অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার, ব্যাঙ আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।নিস্তব্ধ।সবাই সবার কাছে একটু একটু করে সরে সরে আসছে।

মামিমা একটা মোমবাতি নিয়ে রান্নাঘর থেকে এই ঘরে আসছিল ব্যস মোমবাতিটা ঝড়ে নিভে গেলো আর মামিমা দেখতে পেলো বাড়ির উঠোনের আম গাছে কে বসে বসে হাত দুটো দোলাচ্ছে।মামিমা তো বিকট শব্দ করে উল্টে পড়ে, ভূত ভূত বলে চেঁচিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।

ঘর থেকে বাবাই এর মামা আর টুকুন বেরিয়ে দেখলো সত্যি একজন সাদা ফুল হাতা জামা গায়ে দিয়ে  গাছে বসে হাত নাড়ছে।টুকুনের অবস্থা তো খারাপ।দাঁত কপাটি লাগার মতো ।

মামা চিৎকার করছেন, কে ,কে ওখানে? কোন হ্যায়? ও দুলতেই থাকে।মামা বলেন সরষে পুড়িয়ে নিয়ে আয় তো দেখি।পালাতে পথ পাবে না।মামিমাকে ধরাধরি করে ঘরে ঢোকানো হয়েছে।কিছুক্ষণ পর একবার আওয়াজ দিলো ভূ-ভূ-ভূ করে। আবার জ্ঞান চলে গেলো।

এদিকে বাবাই এর অবস্থা তো খারাপ।পাপুন বললো আজ কালী পুজো তো, মাকালীও ঘুরে বেড়াতে পারে। ঘরের মধ্যে সব চুপচাপ।মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।

এমন সময় হটাৎ কারেন্ট এসে গেলো, পূজোর দিন তো তাই তাড়াতাড়ি এলো ,নইলে ভোগাতো।

সবার ধাত এলো।

মামা বাইরে বেরিয়ে এসে বললো - আমি বলেছিলাম না , ভূত টূত কিছু নেই।তোরা সব ভীতু।কেউ আমার কথা শুনলি না তখন ।

আসলে তখন উনি ভূত বলেই বিশ্বাস করেছিলেন আর মনে ভয় মুখে  সাহস দেখাচ্ছিলেন ।মামা তখন উচ্চস্বরে ডাকলেন, ওরে টুকুন, বাবাই সবাই বাইরে আয়, দ্যাখ ভূত এখনো গাছেই বসে আছে।

দুপুরে যে সব জামা কাপড় কাচা হয়েছিল তার মধ্যে ওই সাদা শার্টটি উড়ে গিয়ে গাছে আটকে ঝুলছে আর হাতা দুটো দুলছে।ওটাই তোরা ভূত ভূত করছিলি।তোর মায়ের কান্ড দেখ । সত্যি!!! হাঃ হাঃ হাঃ।

এই তোদের সাহস ? তোরা দেশের ভবিষ্যৎ? সাহসী হ, বুঝলি ,সাহসী হ।

টুকুন বললো আমি কিন্ত আগেই বলেছিলাম ভূত টুত কিছুই নেই।


দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান।


No comments:

Post a Comment

সম্পাদকীয়--

সম্পাদকীয়-- অজানার মাঝে রহস্যময়তা লুকিয়ে থাকে। জন্ম-মৃত্যু বুঝি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড়  রহস্য। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আমরা অভ্যস্ত, অভ...