Saturday, 4 September 2021

সঞ্জয় ঘটক--ভুলবো না

 


ভুলবো না

সঞ্জয় ঘটক


সালটা খুব সম্ভবত 1990 কি1991

হবে। তবে সেই দিনটা কোন দিনও ভুলবো না। আমরা কয়েক জন কর্মসূত্রে নিজের বাড়ি ছেড়ে থাকি এক মফঃস্বল শহরে। তবে শহর না বলে গ্রাম বললেই ভালো হয়। যে বাড়িতে থাকি তার পোশাকি নাম "যদু বাবুর মেসবাড়ি"। অর্ধ শতাব্দী আগের নোনা ধরা এক বাড়ি। ঘর গুলো ছোট ছোট কোন রকমে থাকা যায়। দু তিনটে ঘর নিজেদের সুবিধা মতো ভাগাভাগি করে থাকি অথচ খাবারের কোন ব্যবস্থা নেই। আমার যদিও অসুবিধা হয় না। তবে বাকিরা যে যার মতো নিজেরাই রান্না করে খায়। আমি শুধু সকাল সন্ধ্যা যাই লালার হোটেলে, আর দুপুরে অফিসে।আমরা যে বাড়িতে থাকি তার ঠিক উল্টো দিকে পাঞ্জাবি এক বৃদ্ধ ভদ্র লোক থাকেন,ওখানেই কোন এক কালে তাঁর বেশ চালু হোটেল ছিল তবে বর্তমানে একদমই চলে না। ওনাকে সকলের মতো আমিও লালাজি বলতাম, তার কাছেই বলে কয়ে ব্যবস্থা করেছি। ভদ্র লোককে নিজের জন্য খাবার ফুটিয়ে খেতেই হয়, সাথে আমাদের দু এক জনের জন্য ব্যবস্থা করে দেন। তাঁর খদ্দের বলতে আমার মতো কয়েক জন অপারগ ব্যাক্তি। আমার বাকি সহ আবাসিকদের মতো আমার অফুরন্ত সময় নেই, এবং কোন কালে রাঁধতেও পারিনা তাই ইচ্ছাও করে না। আমি অফিস থেকে ফেরার পথে দুটো ছেলেকে পড়িয়ে ফিরতাম। রাতটা কোন প্রকারে কেটে যায়। ছুটির দিনে দেশে ফিরে যাই আর একান্তই কোন সপ্তাহে না যেতে পারলে গতি হয় ঐ লালার হোটেলে।


সেদিন সকাল থেকেই অঝোর ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে তাই পথ ঘাট শুনশান। রাতে ছেলে গুলোকে পড়িয়ে ফিরতে দেরি হয়ে গেল। লালার দোকানে ঢুকে দেখলাম সেখানে লালা নেই। তবে আমার পছন্দের কয়েকটা খাবার টেবিলে সাজিয়ে রেখে বোধ হয় গিলতে বসেছে। ওর ঐ এক দোষ, এক গলা খায় তাই সন্ধ্যে থেকেই হুঁশ থাকে না। আমি যথারীতি নিজের মতো খেয়ে দেয়ে মেসে ফিরে এলাম। ফিরে দেখলাম আমার সহ আবাসিকেরা খিচুড়ি বসিয়েছে। বেশ যুত করে রান্নার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ওরা প্রতিদিনই রান্না করে খায়,মাঝে মধ্যে আমাকেও খাওয়ার কথা বলে তবে আমি ঐ দলে ভিড়তে চাই না। কোন না কোন অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যাই। ওরা আমাকে দেখে বললো জানতাম আজ কিছু জুটবেনা। তৈরি হয়ে এসো এক সাথে জমিয়ে খিচুড়ি খাব, আজ আবার না বলো না।

আমি বললাম: কিন্তু আমি তো একপেট খেয়ে এলাম।

সুবীর বললো: কি ব্যপার ছাত্রের বাড়ি আজ নিমন্ত্রণ ছিল নাকি!!

আমি বললাম: তা হবে কেনো!!! প্রতি দিন যেমন খাই, আজও তেমনি লালার হোটেল থেকে খেয়ে এলাম।

সুজন বললো: সে কি করে হবে!! লালাজি তো আজ দুপুরে আগুনে পুড়ে মারা গেছে। 

সমাপ্তি

 




No comments:

Post a Comment

সম্পাদকীয়--

সম্পাদকীয়-- অজানার মাঝে রহস্যময়তা লুকিয়ে থাকে। জন্ম-মৃত্যু বুঝি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড়  রহস্য। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আমরা অভ্যস্ত, অভ...