প্রকৃতিহীন প্রকৃতি'
বহ্নিশিখা
খোঁজ নিতেই বেড়াতে গেছি ছোট ভায়ের বাড়ি। খারাপ স্বপ্ন দেখে বেশ উদ্বিগ্ন। আজকাল নির্দিষ্ট সময় ধরে সকলেই ফেইসের সামনে বুক ধরে রাখে।
ভাইও একই পথের পথিক।ভাইরে ফোন দেই ফোন ধরে না। নেটে আসে না। কি যন্ত্রণায় পেলো?
চিন্তায় চিন্তায় মাথার বিকল অবস্থা।
কারে বলি, কোথায় যাই কখন যাই সে-নিয়ে বাড়তি টেনশন।
তখন ঢাকা থেকে মেজোভাই ফোন দিয়ে বলে ছোটর বলে করোনা হইছেরে? বল ওরে দেখবে আমি এমন অসুস্থ হলাম কাকে কি বলি,,,
আমি বললাম, কি জানি! ওর সাথে তো রোজই আমার কথা হয় মেসেঞ্জারে। তেমন তো বুঝি না। কথা এমন হয়,, ধরো,সকালে মেসেজ দিলাম, কিরে কেমন আছোস? বিকালে বললো ভালো আছি। ব্যস এটুকুই। মেজাজ যায় বিগড়ে। আবার মেসেজ দিলাম, কিরে তোর কি সমস্যা বল,, শরীর খারাপ থাকলে বল,ওষুধ পত্র বাজার লাগলে বল,নিয়ে আসি। সে
বললো,পেট ব্যথা। টেনশন বাড়ে। চারদিকে করোনার মহোৎসব।
বিকালের মেসেজের উত্তর দেয় রাত দুটায় চেয়ে থাকি কখন সে বলবে কিছু। রাত দুটোয় সে উত্তর দেয়,বাজার লাগবে।
আমি বলি কি কি লিখে পাঠা। সে লিখে ---
পাঁচ কেজি খাসির মাংস
পাঁচ কেজি মুরগীর মাংস,
পাঁচকেজি বড় মাছ
পাঁচ কেজি ছোট মাছ
পাঁচ কেজি সোয়াবিন তেল।
ইত্যাদি ইত্যাদি।
একে তো সারাদিন মাইনষের বাড়ির কাজ, পানে চুনে গলাগলি থাকা চাই,
নয়তো আত্মসম্মান নিয়া টানাটানি।
এরমধ্যেই নীরবে তারে নিয়ে টেনশন। তার উপর এসব মজা করা কারোর ভালো লাগার কথা না।
তার বউরে ফোন দেই। বউয়ের সাথে কথা বলে মনে হলো, অসুস্থ ছিল,এখন একটু ভালো। আমার প্রশ্ন তাহলে তার হইছে টা কি?
আর কিছু বললাম না,ভেবে রাখি, যেভাবেই হোক আগামী কাল গিয়েই দেখি। কি অবস্থা তার।
পড়িমরি খেয়েদেয়ে একটা রিকশা নিয়ে গেলাম, ওরা তিন তলায় থাকে,কেচিগেইটে ইয়া বড় তালা ,ফোন দেই। ফোন যায় না। আবার মেজাজ বিগড়ানো। দুপরবেলা বরকে বলছি আমার ফোনে টাকা দিও। সে বরাবরের এবারও ভুলে গেছে। মনে জেদ ওঠে,আমার আর কোন কিছু সহজে পাওয়া হলো না।
যাক এখন তো সামনের সমস্যা মিটাই। অনেক ভেবে নীচের ফ্ল্যাটের মহিলাকে বিনয় করে চাবিটা দিতে বললাম,এবং ভাইয়ের বাসায় এলাম।
কলিং বেল বাজাতেই বউ কে কে বলল,মাস্কের ভেতর থেকে ভারী কন্ঠে আওয়াজ গেলো। বউ আবার খুব সাহসী। চিনতে পারেনি,তবু চট করে খুলে দিলো। কে যাচাইয়ের জন্য। ভেতরে গেলাম। বউ বলতে লাগলো সে চেনে নাই। কথা ছোট করে বললাম,যাতে চিনতে না পারো তাই ভারী গলায় কথা বলেছি।
গিয়ে দেখলাম ভাই শুয়ে আছে,দেখে মনে হলো একটু আগেই স্নান খাওয়া শেষ করে ঘুমাতে চেষ্টা করছে। অসুস্থতা বলতে যা বুঝায় মনে ঠিক তা নয়। সমস্যা তো আছেই। তার অসুস্থতা নয়।
অনেক জিজ্ঞাসা বাদের পরেও কি সমস্যা উদ্ধার করা গেলো না। এর মধ্যেই ভাই অস্থির হয়ে বলছে দিদিরে খাইতে দাও,ভর পেট খেয়ে গেছি তারপর ওদের পীড়াপীড়িতে দু'গ্রাস খেতে হলো। এরপর ভাই বলল,বউ চা বানাও চা খেতে ইচ্ছে করছে,দিদিও খাবে। মন্ত্রমুগ্ধের মতো ছুটি রান্নাঘরে গেলো। আমার লজ্জা করছে। দুপুরে খেয়ে একটু শোবে তা না আমাকে নিয়ে পড়লো। বললাম,চিনি ছাড়া লিকার খাবো। তাড়াতাড়ি চলে আস,গল্প করি।
অনেক ক্ষণ পেরোলে আমি রান্নাঘরে গিয়ে দেখি সেমাই রান্না করছে। আমার মাথায় হাত। সে কি! সেমাই করছো কেনো? পেটে একদম জায়গা নেই। বলে চলে এলাম।
ছোট্ট কে বার বার জিজ্ঞেস করার পর সে যা বলল তাতে আমি স্তব্ধ হয়ে রইলাম কিছুক্ষন। তার বউ নাকি বাবা ভোলানাথ কে দেখে। দুদিন আগে ভোলানাথের বিগ্রহ এনে দিয়েছে ছোট্ট।
হঠাৎ এমন কি হলো,বলেনি। শুধু বললো,বিগ্রহ ভেঙে দিয়েছি। তাও আমি জানতে চেয়েছিলাম বিগ্রহ এনেছিলি না? সেটা কই? তখন চুপ চুপ বললো ভেঙে ফেলেছি।
কি আর বলি? বউ আর সে দু'জনই সমান অপরাধি। ওকে কিছু বকাবকি করলাম। ছুটি এঘরে আসার আগে।
পাঁচ বছর প্রেম করে বিয়ে। কিন্তু বিয়ের পর থেকে ওদের ভেতর শান্তি কি জিনিস দেখিনি। আমার বিয়ের আগেই ওর বিয়ে হয়। সে চায় নি।আমার অনুরোধেই বাধ্য হয়।
এর মধ্যেই চা সেমাই নিয়ে বউ হাজির। খাবো বললেও ছুটির পীড়াপীড়িতে সিকি খানেক রেখে ফিরিয়ে দিলাম।
আর কিছু বলার মতো পারিপার্শ্বিকতা নেই। উঠবো,উঠবো করছি।ঠিক তখনই ছুটির মাথা লাটিম এর মতো ঘুরছে। আমি কিছু বুঝতে পারিনি। কি হচ্ছে। তারপর ভান শুরু করে দিলো তিন থেকে চার বার মাথা ঝাঁকালো। ছোট্ট তাড়াতাড়ি খাট সংলগ্ন ঠাকুর দোলার পাশে বসিয়ে চলে এলো।
কিছুক্ষন পর প্রায় মিনিট পাঁচেক এর মধ্যেই ছুটি সুস্থ।
এরপ ছুটি দু'মিনিট শুয়ে ছিলো৷ তারপর ভাই বলল, বউ, আনারসটা কেটে ফেলো। ওটা নষ্ট হয়ে যাবে। দেখলাম দিব্যি দশমিনিট ধরে এটাকে ইচ্ছে মতো চটকে রস বার করে এনে ওরা ভাগ করে খেলো। আমি ভাবলাম,এবার উঠি। উঠেও পড়েছি। হঠাৎ এমন করে পায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো টেনে তুলতে পারিনি। তার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলাম ভালো থেকো, সুস্থ থেকো। এতেও শেষ নয়।
ছোট্ট কেও কড়া হুকুম দিদিকে প্রণাম কর,মাফ চাও। আমি বললাম,ঠিক আছে,ঠিক আছে,আর প্রণাম লাগবে না, তবুও ছোট্ট কে ঠেলে নুইয়ে দিলো। ছোট্ট ও সাষ্টাঙ্গ এ প্রণাম করলো।
তাতেও হলো না, মাফ চাও,শিগগির মাফ চাও। ছোট্ট বলল,কিসের জন্য মাফ চাইব? ছুটি বলে, দিদিরে যে মারছিলা মনে নাই? আমি বললাম সে তো অনেক বার মাফ চেয়েছে, অনেক আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি। তা না হলে প্রতিদিন তোমাদের কল্যাণের জন্য মায়ের পায়ে জবা দিয়ে আসতাম বলো? আবার নতুন করে কেন? এবার থেকে তোমরা
ভালো থাক, সুন্দর থাক। তারপর ওরা দুটিতে সেকি কান্না,,,,।

No comments:
Post a Comment