সান্ত্বনা চ্যাটার্জি
মৃত্যুর পরে
একটা ছোটো কবিতা লিখে ছিলাম “ডেকোনা আমায় মৃত্যুর পর”।
কবিতাটা লেখা হয়ে গেছে।
ল্যাপটপে ফোটোশপে ব্যাক গ্রাউন্ড তৈরী করছি।
আমার একটা ছবি, আবছা অন্ধকার ঘর, একটা খোলা দরজা। দরজার বাইরে ঘন অন্ধকার, সেখানে এক ছায়া মানুষ।
দেওয়ালে একটা খালি ছবির ফ্রেম তার গলায় মালা পরানো।
যদিও আমি ইদানীং নিজের লেখা, নিজেরই কম্পোজিশান অন্য অনেকের সাথে পত্রিকা তে দিয়ে, আবার সে বই টাকা দিয়ে কিনব না ঠিক করেছিলাম।
আমার এর বন্ধু প্রকাশকের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে পারলাম না।অগত্যা ল্যাপটপের মধ্যে মগ্ন হয়ে গেলাম।
ঠিক কতক্ষন এমন মগ্ন ছিলাম জানিনা, হঠাৎ ল্যাপটপের পরদায় ছবিটা আমায় চমকে দিল।
একটা হাল্কা স্নিগ্ধ আলো আঁধারি ঘর, দেওয়ালে আমার ছবি তে সাদা চন্দনের ফোঁটা, বেলফুলের মালা, নিচে টেবিলে ফুলদানীতে রজনীগন্ধা সাজানো।
টেবিলে একটি বাঁধানো বই। বই এর নাম “ডেকো না আমায় মৃত্যুর পর” লেখক এর নাম দেখে আঁতকে উঠলাম। তখনই খেয়াল করলাম আমি ঘরের দরজার বাইরে দাঁডিয়ে।
ধীরে ধীরে ঘরে অনেক মানুষ প্রকট হচ্ছিল। আমার আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব। আমার প্রকাশক বন্ধু বলছে এ বইটা আমি ওর হাতে তুলে দিয়ে চমকে দেব ভেবেছিলাম, কিন্তু তা আর হলো না। শান্তনুর একক বই প্রকাশের ইচ্ছা ছিল। আমার কাছে কিছু কবিতা ছিল বাকী অন্যের কাছে সংগ্রহ করেছি।
কিন্তু শেষ লেখা তৈরি হতে হতে কি ভাবে কি হয়ে গেল …একমাস কোমায় ছিল।
তার পর সব শেষ।
সবাই মাথা নিচু করে এক মিনিট মৌন হতে ই আমি চুপি সারে বইটির ভিতর সেঁধিয়ে গেলাম।

মরণের পরে কী আছে কে জানে!তবে লেখক বা কবির বই-এর মধ্যে সেঁধিয়ে যাওয়াটা দারুণ ব্যাপার,কল্পনায় হলেও।
ReplyDelete