Monday, 6 September 2021

রবীন বসু--অব্যক্ত যন্ত্রণা




অব্যক্ত যন্ত্রণা

(ভৌতিক গল্প)

রবীন বসু

 

 

মিনিট পনেরো দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে আসব ভাবছি এমন সময় দেখলাম এক বয়স্ক ভদ্রলোক ।  হাতে বাজারের ব্যাগ। পাশ কাটিয়ে চলে যেতে গিয়েও থমকে দাঁড়ালেন। আমাকে দু'পলক দেখে তারপর বললেন, আপনি? 

---আমি, মানে, আমি কৃষ্ণেন্দুর বন্ধু। এই ফ্ল্যাট যার। আমাকে আসতে বলেছিল। এসে দেখছি তালা বন্ধ। 

---কৃষ্ণেন্দু আপনাকে আসতে বলেছিল! ভদ্রলোক অবাক হন। 

---হ্যাঁ। সকালে বাজারে দেখা। বলল, আমার দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী। মিসেসকে নিয়ে দুপুরে আসা চাই-ই। এখন আমরা এসেছি, কিন্তু ওরা নেই। ফোনেও পাচ্ছি না। 

---পাবেন না। ভদ্রলোক কেমন রহস্যময়। 

আমি জানতে চাইলাম, কেন? পাব না কেন? 

---আসুন আমার সঙ্গে। ওই ডানপাশের  বি-ফাইভ ফ্ল্যাটটা আমার। বসে কথা বলি। 

ভদ্রলোক হাতের ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে গেলেন। আমি রুমাকে চোখের ইশারায় আসতে বলে এগিয়ে চলি।

দু' কামরার ছোট ফ্ল্যাট। বড় জোর সাতশ স্কোয়ার ফিট হবে। একটু ঘিঞ্জি। আলো কম। ড্রয়িং স্পেসে সোফায় বসলাম। ভদ্রলোক কিচেনের দিকে গিয়ে বাজারের ব্যাগ রেখে স্ত্রীকে চা করতে বলে, হাত ধুয়ে আমাদের পাশে এসে বসলেন। 

---আপনি ঠিক বলছেন আজ সকালে কৃষ্ণেন্দুর সঙ্গে আপনার বাজারে দেখা হয়েছিল? 

আমি উত্তর দিলাম, হ্যাঁ, অফকোর্স । 

---কিন্তু সেটা কী করে সম্ভব!

---কেন সম্ভব নয়? আমি জানতে চাইলাম। 

ভদ্রলোক এবার একটা সিগারেট ধরালেন। ধোঁয়া ছেড়ে বলতে শুরু করলেন, কৃষ্ণেন্দু বিয়ের পর বছর দুই  আগে পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে এই ফ্ল্যাট কিনে উঠে আসে। খুব ভদ্র আর শান্ত ছেলে ছিল। ওর স্ত্রী ছিল বিপরীত। অ্যাম্বিসাসী এক্সট্রোভার্ট। বছর খানেক পর থেকে দু'জনের মধ্যে গণ্ডগোল শুরু হল। মেয়েটি তার এক্স বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে এসে ওর উপর চাপ সৃষ্টি করতে লাগল ফ্ল্যাট তার নামে লিখে দেবার জন্য। এমনকি ও যখন অফিস যেত মেয়েটি তার পুরুষ বন্ধুটিকে ঘরে আনতে। এ নিয়ে থানা-পুলিশও হয়েছিল। কিন্তু কোন ফল হয়নি। শেষে ও মরিয়া হয়ে ওই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল। 

---কী সিদ্ধান্ত? 

---স্ত্রীকে খাবারের সঙ্গে বিষ খাইয়ে নিজেও খেল। সব শেষ। তা প্রায় ছ'মাস হয়ে গেল । এবার বলুন আপনার সঙ্গে কীভাবে দেখা হয়? 

তাই তো, যে বন্ধু ছ'মাস আগে মারা গেছে, সে আসবে কী করে! কিন্তু দিনের আলোয় বাজারে যাকে দেখলাম…

 

রুমাকে নিয়ে যখন বাড়ি ফিরলাম, রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে পেছন ফিরতেই মনে হল ওই রিক্সাওয়ালার অবয়ব একদম কৃষ্ণেন্দুর মত। দুটো অসহায় যন্ত্রণাকাতর চোখ যেন কিছু বলতে চায়! তাহলে কি সবটাই আমার মনের বিভ্রম! ঘটনাটা আজও আমার কাছে রহস্য রয়ে গেছে।

 

1 comment:

  1. আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই 🙏❤️

    ReplyDelete

সম্পাদকীয়--

সম্পাদকীয়-- অজানার মাঝে রহস্যময়তা লুকিয়ে থাকে। জন্ম-মৃত্যু বুঝি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড়  রহস্য। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আমরা অভ্যস্ত, অভ...