নগেনকাকার ভূত দর্শন
অর্পিতা ঘোষ পালিত
নগেনকাকা খালের ধারের জমিতে কদিন হলো ধানের চারা লাগিয়েছে। এই খরার সময়ে জল-সেচ দিতে হয় প্রায়দিনই, নয়তো প্রখর রোদের তাতে ধানের চারাগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। যখনকার কথা বলছি তখন নগেন কাকাদের গ্রামের দিকে রিভার-পাম্প বা ডিপ-টিউয়েল চালু হয়নি। ডি,ভি, সির খাল থেকে ডোঙা করে জল তুলে চাষের জমিতে দিতে হয়। দুপুরের খর-রোদের জন্য নগেনকাকা সন্ধ্যে নেমে এলে চাঁদের আলোয় জল দিতে যায়।
সেদিন নগেন কাকা সন্ধ্যেবেলা বাড়ি থেকে বেরোলো জমিতে জল দেওয়ার জন্য। চাষী মানুষ ভয়-ডর কম, ভয় শুধু পোকামাকড়ের। অন্ধকারে আলের ধারে কোথায় শুয়ে থাকবে তাই দেখে পা ফেলতে হয়। চারিদিকে শুনশান, কেউ
কোথাও নেই, ডোঙাটা নিয়ে খাল থেকে জল তুলে জমিতে জল দিচ্ছে নগেনকাকা। কাকার খুব বিড়ির নেশা, মাঝে মাঝে বিড়ি ধরিয়ে ধোঁয়া ছাড়ছে।
মাটিতে জল পড়া মাত্রই শুষে নিচ্ছে, পুরো জমি ভিজতে বেশ রাত ও হয়ে গেল। একটা বিড়ি ধরিয়ে আবার জল দিতে শুরু করলো। হটাৎ শুনলো পাশ থেকে কে যেন বললো – এঁকটা বিঁড়ি দেঁ, সেঁই থেঁকে এঁকের পঁর এঁক বিঁড়ি তোঁ এঁকাই টাঁনছিস। আঁমাকে এঁকটা বিঁড়ি দেঁ। নগেনকাকা আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ কোথাও নেই। নগেনকাকা গ্রামের ছেলে, তাই বুঝতে পারলো নাঁকি সুরে কে কথা বলছে, আজ কার পাল্লায় পরেছে।
নগেনকাকা – একটু দাঁড়া দিচ্ছি … এই বলে সেদিনকার মতো ডোঙাটা রেখে তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে রওনা দিল … এবার ভালোভাবে বাড়ি পৌঁছতে পারলে হয়। আগের বিড়িটা শেষ হওয়ার আগে আর একটা বিড়ি ধরালো। নগেন কাকা ছোট থেকে শুনে আসছে, কাছে আগুন থাকলে নাকি ভূতে ছোঁয়না, একটু দূরে দূরে থাকে। আজ নগেনকাকা জমিতে আসার আগে এক বান্ডিল বিড়ি কিনেছে। একের পর এক বিড়ি ধরাতে ধরাতে জমির আলপথ দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছে। জমির সীমানা শেষ হলে তবে গ্রাম আসবে।
ভূতটা সমানে নগেনকাকার পেছন পেছন আসছে আর বলছে – এঁকটা বিঁড়ি দেঁ, এঁকটা বিঁড়ি দেঁ।
কিছুতেই পেছন ছাড়ছে না। নগেন কাকাও একটা বিড়ি শেষ হলে আর একটা বিড়ি ধরাচ্ছে আর বলছে – দাঁড়া দিচ্ছি, দাঁড়া দিচ্ছি।
নগেনকাকা হাঁটতে হাঁটতে যখন গ্রামের সীমানায় ঢুকে পরলো, তখন ভূতটা বললো – যাঁ যাঁ আঁজ খুঁব বেঁচে গেঁলি, তঁবে তোঁকে আঁমি ছাঁরবোনা। যেঁভাবেই হোঁক তোঁর ক্ষঁতি কঁরবোই।
এরপর নগেন কাকা বাড়িতে গেল। আগুনে গা-হাত-পা সেঁকে ঘরে ঢুকলো।
পরেরদিন সকালে নগেনকাকা ভাবলো... একটু ধানের জমির কাছ থেকে ঘুরে আসি, কাল তো ভূতের পাল্লায় পরে ছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখে বিশাল ধানের জমি পুকুর হয়ে গেছে, একেবারে জমির আলের কানায় কানায় জলে টইটুম্বুর। মনে হয় ভূতটা সারারাত ধরে নগেন কাকার জমিতে জল দিয়েছে।
নগেনকাকা মাথায় হাত দিয়ে জমির আলে বসে পরলো। নিজে ভূতের হাত থেকে বাঁচলেও ধান গাছগুলোকে বাঁচাতে পারলোনা।
সেবার আর ধান হলোনা, খরার সময়েও সব ধানগাছ জলে পচে গেলো।
Address :–
Arpita Ghosh Palit
Chourasta, Bidhubabu Lane,
P.O. - Krishnanagar
Dist - Nadia
India
Pin - 741101
Mobile - 9733576950
-------------
ঠিকানা:–
অর্পিতা ঘোষ পালিত
বিধুবাবু লেন,চৌরাস্তা,
পোস্ট- কৃষ্ণনগর
জেলা- নদীয়া
ভারত
পিন- ৭৪১১০১
মোবাইল-৯৭৩৩৫৭৬৯৫০
------------------------
লেখিকা পরিচিতি:--
অর্পিতা ঘোষ পালিতের জন্ম নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর শহর। ছোট থেকেই সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ। তখন থেকেই চলছে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ লেখালেখি। বিভিন্ন কাব্য গ্রন্থ, বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা, মাসিক পত্রিকা, শিশু সাহিত্য পত্রিকা ও দৈনিক খবরের কাগজে শতাধিক লেখা প্রকাশিত । বাংলাদেশের পত্রিকা ও দৈনিক কাগজেও বহু লেখা প্রকাশিত ।
নিজের একক কাব্যগ্রন্থ " পাথর পাতা নদী" ও গল্পগ্রন্থ " জীবন কুড়ানো প্রহর" পাঠকের মাঝে সমাদৃত।
--------------------------
আমার নিজের ভাবনায় রচিত অপ্রকাশিত লেখা। অন্য কোথাও থেকে অনুকরণ কিংবা অনুসরণ নয়।


No comments:
Post a Comment