Sunday, 5 September 2021

শংকর ব্রহ্ম--ভূতের থাপ্পর


 



ভূতের থাপ্পর

শংকর ব্রহ্ম

-----------------



                          বন্ধুবর তাপস কিরণ রায়ের আহ্বানে, 'বর্ণালোক'

দ্বি-মাসিক ব্লগের জন্য এবারের ভূতের গল্পটা লেখার জন্য

ভূতের গল্প লিখতে বসে স্বচক্ষে ভূত দেখব, তা কখনও স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।

                      চিলেকোঠায় দরজা জানলা বন্ধ করে লিখতে বসেছি।

লেখার আগে মনে মনে ভূতের কল্পনা করছি, ভূতের আকৃতি ভাবছি। প্রকৃতি ভাবছি। তার অবস্থান ঘরের মধ্যে ভাবছি। গল্পটা লেখার আগে, গায়ে একটা শিরশিরানি ভাব আনতে চাইছি।

                   এমন সময় মনে হল কে যেন জানলায় টোকা মারছে। আর তারপরেই আচমকা দরজাটা খুলে গেল। লাইটটা নিভে গেল হঠাৎ।

                  দরজা দিয়ে কে একজন ঢুকে এলো ঘরের ভিতর। এসে নাকি সুরে খ্যানখ্যানে গলায় বলল,

- ব্যাঁটা লেঁখক, আঁমাদের নিঁয়ে গঁল্প লিঁখবি? কিঁ জাঁনিস আঁমাদের সঁম্পর্কে তুঁই?

- আমি আমতা আমতা করছি ভয়ে ,মানে... 

- মাঁনে কিঁ,বঁলবি,আঁমরা হিংঁস্র, মাঁনুষের ঘাঁড় মঁটকে রঁক্ত খাঁই,নাঁকি সুঁরে কঁথা বঁলি এঁইসব তোঁ?

আমি কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে বললাম,

- তাই তো জানি। লোকে বলে।

সজোরে এক থাপ্পর পড়ল আমার গালে।

- আঁমাদের নিঁয়ে মিঁথ্যের বেঁসাতি। আঁমরা মাঁনুষের ঘাঁড় মঁটকে রঁক্ত খাঁই? নাঁকি,তোঁরা নিঁজেরাই নিঁজেদের ঘাঁড় মঁটকে রঁক্ত খেঁয়ে আঁমাদের নাঁমে চাঁলাস? 

- তবে যে লোকে বলে?

- লোঁকে আঁমাদের নাঁমে দোঁষ চাঁপিয়ে নিঁজেদের অঁপরাধ আঁড়াল কঁরে।

- তা কি করে হবে?

- হ্যাঁ তাঁই হঁয়। আঁর এঁকটা মিঁথ্যে বঁললে আঁমাদের নাঁমে, মাঁরব আঁর এঁক থাঁপ্পর। ঘাঁড় মঁটকে দেঁবো।

এক থাপ্পরেই গালটা জ্বলছে,আর একটা

থাপ্পর খাওয়ার কোন ইচ্ছে নেই বলেই আমি চুপ করে গেলাম। তারপর ঘাড়টা মটকে দিলে তো কথা নেই।

 হঠাৎ আলোটা জ্বলে উঠল, দেখলাম ঘরে কেউ কোথাও নেই,শুধু দরজাটা হাঁট করে খোলা।

এরপর আর ভূতের গল্প লেখার সাহস হয়নি আমার।

ভয়ে ভয়ে নীচে নেমে এসে দেখি,

গিন্নি ছোট ছেলেকে ভূতের গল্প বলে ঘুম পারানোর চেষ্টা করছে।

আমি বললাম, চুপ কর চুপ কর , ছাতে ভূত আছে।

ছাতে গুম গুম করে, কারও চলাফেরার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। গিন্নি তা শুনে ভূতের গল্পটাকে - গভীর গহন নির্জন অরণ্যে শিয়াল আর কুমিরের গল্পে রূপান্তরিত করে  ফেললো, কায়দা করে।

ছেলে ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে।

তারপর গিন্নি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার গালে ওটা কিসের দাগ গো?

আমি তখন তাকে সব কথা খুলে বললাম।

ততক্ষণে ছাদে ভূতের দাপাদাপি  কমেছে বলে মনে হলো আমার।

সে কারণে এবার আর ভূতের গল্পটা লেখা হলো না আমার।

 

No comments:

Post a Comment

সম্পাদকীয়--

সম্পাদকীয়-- অজানার মাঝে রহস্যময়তা লুকিয়ে থাকে। জন্ম-মৃত্যু বুঝি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড়  রহস্য। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আমরা অভ্যস্ত, অভ...