Monday, 6 September 2021

রূপা বাড়ৈ--অপমৃত্যু



অপমৃত্যু                

রূপা বাড়ৈ          


চারতলার চিলেকোঠার ঘরে বসবাস করে মনি, কলেজে পড়ে। টিউশনি করে নিজের খরচ নিজেই চালায় মা-বাবার কাছে থেকে খুব কমই সহযোগিতা নেয় সে। তার দরজা খুললেই বিশাল এক ছাদ, সেখানে কিছু ফুল, ফল ও সব্জির গাছ লাগিয়েছে। তার ঘরের উপরে আরেকটি ছাঁদ, সেই ছাদে একটা সুন্দর বেঞ্চ আছে, রাত হলে সেই বেঞ্চটাতে শুয়ে বসে গান শোনে আর রাত্রিকালীন প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে আকাশের তারা গুনতে তার খুব ভালো লাগে। কখনো কখনো সে ছাদেই ঘুমিয়ে পরে, আবার অতি ভোরে পাখির কিচিরমিচির ডাক তার ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, ঘুম থেকে উঠেই প্রভাতী সূর্যের রক্তলাল থালাটা তার চোখের সামনেই ভেসে উঠতে দেখে। কিছুক্ষণ উপরের ছাদে হাঁটাহাঁটির পরে নিচের ছাদে নেমে এসে গাছের পরিচর্যা করে মুখ হাত ধূয়ে নাস্তা তৈরী করে নিজের মতো করে খেয়ে রেডি হয়ে সারাদিনের কর্মকাণ্ডের জন্য বেরিয়ে পড়ে। প্রথমে কলেজে তারপরে চার থেকে পাঁচটা টিউশনি করে রাত নয়'টায় বাসায় ফেরা তার প্রতিদিনের রুটিন। ঘরে ফিরে ফ্রেশ হয়ে রান্না করে খেয়ে, নিজের পড়া শেষ করে গভীর রাতে বের হয় ছাঁদে। আজ পূর্ণিমা রাত বিশাল এক থালার মতো চাঁদ উঠেছে চাঁদের জোছনায় প্রকৃতি হাসছে মনির মন ছটফট করছে চাঁদ দেখার জন্য সব কাজ সেরে গভীর রাতে একা মনি ছাঁদে এসেছে, নিশ্চুপ, নির্জনে গুন গুন করে গান করছে আর বাক্যহীন ধীরপায়ে হাঁটছে আর হেড ফোনে গান শুনছে। হঠাৎ করেই চোখ যায় তার পাশের ঝলমলে লাইটিং করে সাজানো পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের দিকে, চাঁদের আলো আর লাইটের আলো একাকার হয়ে আরো আলোকিত করেছে বিল্ডিং'টাকে। মনি তার ছাদ বরাবর চারতলার ব্যালকনিতে দেখতে পায় দুজন নারী-পুরুষ হয়তো দুজন স্বামী স্ত্রী হবে তাই খুব রংঢং করছে, মনির খুব ভালো লাগছে দেখতে, কিন্তু আবার লজ্জাও পাচ্ছে কারণ সে যৌবনা কুমারী, তবুও এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে কার না ভালো লাগে। মনি খুব এনজয় করে দেখছে, খুব সুন্দর দেখতে তাদের দুজনকে। সারারাত ওরা ব্যালকনিতেই ছিলো, ভোর হবার একটু আগেই ওরা ঘরের ভিতরে ঢুকেছে কিন্তু দরজা জানালা খোলাই রেখেছে খুব সুন্দর করে সাজানো গোছানো ঘর'টা মনে হয় যেনো স্বর্গের কোন দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে মনি। ওরা পাতলা মশারীর মধ্যে দুজনে ঢুকেছে, ওরা সঙ্গম সহ যাকিছু করছে সব মনি দেখতে পাচ্ছে, মনি চোখ ফেরাতে পারছেনা নেশাগ্রস্ত হয়ে পরেছে মনি। ভোরের আলো ফুটতেই মনির চোখের সামনে থেকে সব অদৃশ্য হয়ে যায়। এবার সে যা দেখছে সেটা দেখে তার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না, দেখছে ওখানে একটি অর্ধনির্মিত বিল্ডিং, যেটা সে প্রতিদিন দেখতো কিন্তু এখন মানতে পারছে না। তার চোখ সেই সৌন্দর্যে মগ্ন, সে বারবার ওটাই দেখতে চায়। মন খারাপ করে ওখানেই বেঞ্চে বসে আছে ঘরে যেতে মন টানছে না তার, দোতলা থেকে বাড়িওয়ালার মেয়ে মনির বান্ধবী মায়া এসে দেখে মনি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ঐ বিল্ডিংয়ের দিকে। মায়া ধাক্কা দিতেই মনির জ্ঞান ফিরে আসে, মনি মায়াকে রাতের সব ঘটনা খুলে বলে। মায়া তখন বলে ওই বিল্ডিং নির্মাণাধীন সময় দুজন প্রেমিক প্রেমিকা এসে আত্মহত্যা করেছে, সেই সময় থেকে ওদের আত্মা এখানে ঘোরাঘুরি করে। মনি তখন বুঝতে পারে প্রতি রাতে ছাঁদ থেকে ঘুরে ও যখন ঘরে যেতো ঘুমাতে, তখন কারা যেন ওর ছাঁদে হাঁটাহাঁটি করে, ধুরুম ধারুম শব্দ করে এরাই তাহলে তারা। এতোদিন শব্দ গুলো শুনে মনি ভয় পায় নাই, আজ মনির খুব ভয় পাচ্ছে সে মায়াকে জড়িয়ে ধরে বলেছে আমি আর এখানে একা থাকতে পারবো না অন্য কোথাও চলে যাবো, মায়া আশ্বাস দিয়ে বলে এখন থেকে আমি তোমার সাথে থাকবো তবুও তুমি কোথাও যেও না। তুমি আমার প্রাণের সাথী তোমায় ছেড়ে থাকতে পারবো না, মনি বলে আচ্ছা ঠিক আছে। মনি তার মা'কে ফোন করে সব ঘটনা খুলে বলে মনির মা মনিকে বাড়ী যেতে বলে। মনির মা বুঝতে পারে মনিকে ফকিরের কাছে নিয়ে ঝাড়ফুঁক সহ তদবির করতে হবে, মনি রেডি হয়ে বাড়ী যায়।

 

No comments:

Post a Comment

সম্পাদকীয়--

সম্পাদকীয়-- অজানার মাঝে রহস্যময়তা লুকিয়ে থাকে। জন্ম-মৃত্যু বুঝি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড়  রহস্য। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় আমরা অভ্যস্ত, অভ...