অবিশ্বাস্য
শান্তা মিত্র
এটি গল্প শোনালেও এটা একটা সত্য ঘটনাকে অবলম্বন করেই লেখা। আমার এক খুব কাছের মানুষের থেকে শোনা। তিনি একটি শুটিং এ গেছিলেন। জায়গা টা ছিলো আলিপুরদুযার। ওখনেই একটা ভালো স্পটে শুটিং হয়েছিল । শুটিং শেষ করে ওখানে একটা নামী হোটেলে ওরা উঠেছিল। (নামটি বলাটা হয়তো এখানে ঠিক হবে না)। সারাদিন শুটিং এর ব্যস্ততা শেষ করে, রাতে খাওয়া-দাওয়া করে সবাই শুতে যায় যে যার ঘরে। ওই ইউনিটেরই দুজন মেকআপ আর্টিস্ট ( মহিলা) তারাও তাদের জন্য যে রুমটি বরাদ্দ ছিল সেখানে তারা শুতে যায়। শুতে যাওয়ার আগে তারা ঘরের সব কিছু বন্ধ করে বাথরুম বন্ধ করে শুতে যায়। তারা কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ করে তারা শুনতে পায় বাথরুমের কল থেকে জল পড়ছে। তাদের মধ্যে একজন উঠে গিয়ে কল টা বন্ধ করে আবার শুতে চলে আসে। তখন তাঁরা এ ওকে দোষারোপ করে কল টা কেন বন্ধ করা হয়নি। তারপর আবার চুপচাপ করে শুয়ে পরে, আবারও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই একই ভাবে কলের জল পড়ার আওয়াজ শুনতে পায় তারা, কারণটা বুঝতে না পেরে আবারও উঠে গিয়ে কল বন্ধ করে আসে এবং এসে শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর তারা আবারও একই শব্দ শুনতে পায়। এবার তো তাদের মনে ভয়ের সঞ্চার হয়। তারা আদৌও বুঝতে পারে না এটা অলৌকিক না ভৌতিক বিষয়। এবার তারা তাদের ইউনিট কে বিষয় টি জানায় এবং তখন তাদের ডিরেক্টর অভিমুন্য বাবু এগিয়ে আসে ব্যাপারটা দেখতে। তিনি এসে সব বুঝেসুঝে ঠিক করলেন সেই রাতের জন্য তিনিই একাই থাকবেন ওই ঘরে। আর ওই মহিলাদের অন্য এক রুমে সিফট্ করেন। যথারীতি ডিরেক্টর অভিমন্যু বাবু সেই একই ব্যাপার এর সম্মুখীন হন। তিনি খুব সাহসিকতার সাথে ব্যাপারটা সামলে নেন। এই খবরটা যখন সকালবেলা জানাজানি হয় এবং হোটেল কর্তৃপক্ষকে চাপ দেয়ার পর তখন তাদের থেকে জানা যায় ওই রুমে কোনো এক সময় এক স্বামী-স্ত্রী
এসেছিলন তারা দুজনেই একসাথে সুইসাইড করেছিলেন, তাই তাদের আত্মাটা ওখানে ঘুরে বেড়ায়। এই ঘটনাটা তাদের থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরের দিন সকালেও সবার চোখে মুখে সেই ভয়ের একটা আতঙ্ক কাজ করছিল। তাই তারা সঙ্গে সঙ্গে সেই হোটেল পরিত্যাগ করে। ঘটনা টি শোনার আমারও অবিশ্বাস্য মনে হয়, কিন্তু এটা সত্যি ঘটনা।
No comments:
Post a Comment