"ওখানে কে নাচে"
শিখা মালিক
রাত ঠিক বারোটা ঝুম ঝুম ঝুম ঘুঙুরের আওয়াজ ,এত রাতে ঘুঙুর পায়ে কে যায়--।শুভ্র উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে মামাবাড়ি বেড়াতে এসেছে ,মামারা বনেদি ফ্যামিলি ,ব্রিটিশ আমলে নামকরা জমিদার সূর্যনারায়ণ চৌধুরী ছিলেন এদের পূর্ব পুরুষ ।এখন জমিদারি নেই কিন্তু ঠাকুর দালান বৈঠকখানা সিংহদুয়ার খিড়কি পুকুরের গুপ্ত সুড়ঙ্গ সব আছে ।শুভ্রর বড় উৎসাহ এই সুড়ঙ্গ নিয়ে ,দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এখনকার বড়রা সেদিকে যেতে নিষেধ করেছে ।কাজের লোক মিলিয়ে মোট দশজন লোক থাকে এখানে ,চার মামা থাকে শহরে ।মেজোমামা এখনকার জমিজায়গা দেখা শোনা করে তার দুই ছেলেমেয়ে শহরে পড়াশোনা করে কাজের লোক নরেন কাকা গোটা বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্বে ।নরেন কাকা রাত এগারোটায় কিছু লাইট নিভিয়ে দেয় ,জ্বলছে ঠাকুর দালানের আলোটা ঘুম না আসাতে শুভ্র বারান্দায় পায়চারি করছিল হঠাৎ ঘুঙুরের শব্দ কে যেন চলে গেল মনে হোল।ও তাই খুঁজতে খুঁজতে দেখে আওয়াজ টা বাড়ির গেটের বাইরে চলে গেছে ,গেট বন্ধ তাই শুভ্র গাছ বেয়ে পাঁচিল টপকায় দেখে একটা সাদা ঘাগরা পরা মেয়ে চলে যাচ্ছে জোছনা ঢালা রাত পরিস্কার সে দেখতে পাচ্ছে মেয়েটাকে মোহগ্রস্ত হয়ে সে চলে তার পিছু পিছু একটু পাশে মামাদের বড় বাগান আওয়াজ টা বাগানের দিকে যায় আবারও গাছ বেয়ে বাগানে ঢোকে তখন মনে ভাবে মেয়েটা কি করে ঢুকলো! তাকে খুঁজতে থাকে শুভ্র ।হঠাৎ দেখে বাগানে বড় পুস্করিনীর মাঝে জলের উপর নাচছে মেয়েটা ,মাথাটা ঘুরে যায় তারপর যখন চোখ মেলে দেখে বিছানার পাশে মামা ডাক্তার বাবু নরেন কাকা ।নরেন কাকা বলে অত রাতে বাগান বাড়িতে কি করে গেলে দাদাবাবু,শুভ্র কিছু বলে না মাথায় ঘুরছে কে ও দুপুরে নরেন কাকাকে ফাঁকা পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করে মেয়েটা জলের উপর নাচছিল কি করে?কে ও? নরেন কাকা বলে ঠিক জানিনে তবে শোনা কথা পূর্ব পুরুষরা তো জমিদার ছিল তারা নর্তকী আনতো বাগান বাড়িতে ,এক নর্তকী জলে ডুবে মারা যায় ,অনেকেই মাঝে মাঝে দেখে তবে তুমি আর রাতে অমন করে যেওনা ,মামা বিকালে বলে শুভ্র দিদি ফোন করেছিল কাল বাড়ি যেতে বলেছে।

No comments:
Post a Comment